ফেরিওয়ালা
ফেরিওয়ালা
জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য
পায়ে পায়ে হেঁটে
কখনও কোনও অজ্ঞাত মানুষ
অনতি দূর থেকে
'ও ভাই' বলে ডাকে
মনে নিয়ে সংশয়
একটু উদ্বেগ
ফিরে তাকিয়ে দেখে
দাঁড়িয়ে এক খদ্দের
মাথার ঝুলিখানি
নামিয়ে রেখে
কি দেব দাদা বলে
সবিনয়ে দেখে
খদ্দের বাবাজি
বড্ড চতুর,
এটা ওটা দেখে বলে
দাম বড়ো দস্তুর।
হাতে তুলে নিয়ে
কাঁচের ফুলদানি
ওটা কি লেগে আছে
পরিষ্কার করোনি?
বিনয়েতে গদগদ
ফেরিওয়ালা ভাবে,
ওটা বুঝি পছন্দ হয়েছে
বাবু এক্ষণি নেবে।
বাবু ওতে লেগে আছে ঘাম
আরও সব খদ্দের
দেখে গেছে আগে
আমি কি মুছে দেব?
যদি আপনার লাগে।
অভিজ্ঞ খদ্দের, বাজপাখি চোখ
নেড়ে চেড়ে দেখে বলে
এটার কতো দাম?
বাবু দুই টাকা
আহা! একি?
লেগে আছে ঘাম,
তার ওপর এত দাম?
কি করবো বাবু
কিনেছি দেড় টাকায়
মহাজনের কাছ থেকে
একটাকা বারো আনা
দিলেও চলবে।
কাগজে মুড়ে দেবো?
না, না, থাক পড়ে নেব।
গ্রীষ্মের দুপুরে,
তপ্ত রোদে
বাবুর পাঞ্জাবী
ঝিকমিক করে।
আরে, ওটা সরা সরা
পাঞ্জাবীটায় দাগ
যেন না লাগে ।
মিনতির সুরে
ফেরিওয়ালা বলে,
সকালে বেরিয়েছি বাবু
একটাও বিক্রি নাই ।
করে আপনাকে বিক্রি
কাঁচের ফুলদানি
পেটে কিছু অন্ন দেই।
আপনি দেড় টাকাই দিন।
এই ভর দুপুরে
আপনি বৌনির খদ্দের
আপনাকে কেমনে ফেরাই?
আরে, দূর ছাই
নেড়ে চেড়ে দেখে বলে
এটার কতো দাম?
বাবু দুই টাকা
আহা! একি?
লেগে আছে ঘাম,
তার ওপর এত দাম?
কি করবো বাবু
কিনেছি দেড় টাকায়
মহাজনের কাছ থেকে
একটাকা বারো আনা
দিলেও চলবে।
কাগজে মুড়ে দেবো?
না, না, থাক পড়ে নেব।
গ্রীষ্মের দুপুরে,
তপ্ত রোদে
বাবুর পাঞ্জাবী
ঝিকমিক করে।
আরে, ওটা সরা সরা
পাঞ্জাবীটায় দাগ
যেন না লাগে ।
মিনতির সুরে
ফেরিওয়ালা বলে,
সকালে বেরিয়েছি বাবু
একটাও বিক্রি নাই ।
করে আপনাকে বিক্রি
কাঁচের ফুলদানি
পেটে কিছু অন্ন দেই।
আপনি দেড় টাকাই দিন।
এই ভর দুপুরে
আপনি বৌনির খদ্দের
আপনাকে কেমনে ফেরাই?
আরে, দূর ছাই
তুই বেটা মস্ত পাজি
এত দাম দিয়ে কি
ফুলদানি কেনা যায়?
জানিস আমি কে?
আমি কি করে জানবো বাবু
আমি গরিব
ফেরিওয়ালা যে।
শুনে রাখ তবে
আমি হলাম মস্ত বণিক
ব্যবসাই আমার পেশা
তুই আমায় শেখাবি দাম
এতো বড়ো কথা!
ক্ষমা করুন বাবু
ভুল হয়ে গেছে
আপনি আমায় মাত্র
এক টাকা দিন
বৌনিটা করি।
দূর বেটা, চুপ কর
কাজ পড়ে আছে আমার
এখন যা তো দেখি।
অসহায়, নিরুপায়
ফেরিওয়ালা ওঠে।
ফেরিওয়ালা হলেও
তারও তো কিছু
আত্মসম্মান আছে।
ঝুলিখানি বাঁধতে বাঁধতে
ফেরিওয়ালা দেখে,
এক ভিখারি
চাইছে ভিক্ষা
তারই কাছে।
পকেট হাতড়ে দেখে,
মোটে আট আনা।
ভিখারি বলে
বাবু খিদে পেয়েছে
দিয়ে তাকে চার আনা
দক্ষিণে দেয় রওয়ানা।
রেস্তোরার পাশে
যেতে যেতে দেখে
দাঁড়িয়ে সেই বণিকবাবু।
অভাগা ভিখারিটি
তারই কাছে, মিনতি করে
ভিক্ষা চাইছে শুধু
অবশেষে তাকে,
না দিয়ে ভিক্ষা
ঠেলে ফেলে দিয়ে নিচে
হন হন করে এগিয়ে গেলেন
পানশালাটার কাছে।
ঠোঁটে নিয়ে চুরুট
দোকানিকে চারটাকা দিয়ে
দেশলাইটা জ্বালালেন
দুটি আরামের টান দিয়ে
আহা! বলেছেন যেই
অসাবধানতায় ঠোঁটের চুরুট
গিয়ে পড়লো নিচের নোংরা মাখা
কাদা জলে।
কিছু তো করার নেই
এটা তিনি বুঝলেন
আভিজাত্য রাখতে বজায়
আবার একটা কিনলেন।
এইসব ঘটনা
স্বচক্ষে দেখে
ফেরিওয়ালা মনে মনে
মুচকি হাসলেন শেষে।
ধন্যবাদ দিয়ে বিধাতাকে
মনে মনে বললেন,
ভাগ্যিস আমায়
করেছ ফেরিওয়ালা গো
ধরনীতে পাঠাওনি
বণিকের বেশে।
ক্ষুধাকে সহ্য করা যায়
কিল মেরে পেটে,
মনুষ্যত্ব জানে না যে
মানুষ কখনও হয়নি সে।
--------
দূর বেটা, চুপ কর
কাজ পড়ে আছে আমার
এখন যা তো দেখি।
অসহায়, নিরুপায়
ফেরিওয়ালা ওঠে।
ফেরিওয়ালা হলেও
তারও তো কিছু
আত্মসম্মান আছে।
ঝুলিখানি বাঁধতে বাঁধতে
ফেরিওয়ালা দেখে,
এক ভিখারি
চাইছে ভিক্ষা
তারই কাছে।
পকেট হাতড়ে দেখে,
মোটে আট আনা।
ভিখারি বলে
বাবু খিদে পেয়েছে
দিয়ে তাকে চার আনা
দক্ষিণে দেয় রওয়ানা।
রেস্তোরার পাশে
যেতে যেতে দেখে
দাঁড়িয়ে সেই বণিকবাবু।
অভাগা ভিখারিটি
তারই কাছে, মিনতি করে
ভিক্ষা চাইছে শুধু
অবশেষে তাকে,
না দিয়ে ভিক্ষা
ঠেলে ফেলে দিয়ে নিচে
হন হন করে এগিয়ে গেলেন
পানশালাটার কাছে।
ঠোঁটে নিয়ে চুরুট
দোকানিকে চারটাকা দিয়ে
দেশলাইটা জ্বালালেন
দুটি আরামের টান দিয়ে
আহা! বলেছেন যেই
অসাবধানতায় ঠোঁটের চুরুট
গিয়ে পড়লো নিচের নোংরা মাখা
কাদা জলে।
কিছু তো করার নেই
এটা তিনি বুঝলেন
আভিজাত্য রাখতে বজায়
আবার একটা কিনলেন।
এইসব ঘটনা
স্বচক্ষে দেখে
ফেরিওয়ালা মনে মনে
মুচকি হাসলেন শেষে।
ধন্যবাদ দিয়ে বিধাতাকে
মনে মনে বললেন,
ভাগ্যিস আমায়
করেছ ফেরিওয়ালা গো
ধরনীতে পাঠাওনি
বণিকের বেশে।
ক্ষুধাকে সহ্য করা যায়
কিল মেরে পেটে,
মনুষ্যত্ব জানে না যে
মানুষ কখনও হয়নি সে।
--------

No comments